৩১ বছরে ঢাকা ব্যাংক আস্থার স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে

বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্যাংক তার পথচলার ৩১ বছর পূর্ণ করেছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান অস্থিরতা ও তারল্য সংকটের আবহেও ব্যাংকটি নিজস্ব ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা এবং আস্থার জায়গাটি সুদৃঢ় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে করপোরেট ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে আধুনিক ফিনটেক প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিত করে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নই এখন ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ওসমান এরশাদ ফয়েজ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে ফিনটেক খাতে দায়িত্ব পালন করা ওসমান এরশাদ ফয়েজ মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার তখনই সার্থক হয় যখন তা গ্রাহকের কষ্ট লাঘব করে। এই দর্শনের আলোকেই ঢাকা ব্যাংক প্রবাসী আয়ের প্রক্রিয়ায় জেপি মর্গানের পেমেন্ট অবকাঠামো যুক্ত করেছে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও গতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করেছে। তাঁর মতে, ডিজিটাল বিনিয়োগের একমাত্র যৌক্তিকতা হলো গ্রাহকের অভিজ্ঞতার মানোন্নয়ন। ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি জানান, গত বছর ১১৯ শতাংশ মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে ঢাকা ব্যাংক তার আস্থার প্রমাণ দিয়েছে। সংকটের সময়েও ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের জন্য নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে, যা পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফসল।
দেশের ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার ও দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ওসমান এরশাদ ফয়েজ বলেন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। তিনি বলেন, যেসব ব্যাংক সংকটে পড়েছে, তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মালিকপক্ষের অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাব মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। খেলাপি ঋণের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে ব্যাংকগুলোর পুরনো দুর্বলতা এখন স্পষ্ট হচ্ছে। ঢাকা ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমাতে নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো একক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না কমিয়ে বরং ঋণ পোর্টফোলিওকে ভারসাম্যপূর্ণ করার দিকেই এখন তাদের মূল মনোযোগ।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমানত ধরে রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, উচ্চ সুদহার দিয়ে আমানত আকর্ষণের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা অর্জনের কৌশল বেছে নিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। তাঁর ভাষ্যমতে, আস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রতিটি লেনদেনের স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে এটি গড়ে ওঠে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা প্যাকেজগুলো উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হলে তা অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সহায়তা করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পেশাদার ভারসাম্য থাকলেই কেবল সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আগামী তিন বছরের লক্ষ্য সম্পর্কে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, তাদের কৌশল এখন প্রবৃদ্ধির চেয়েও গুণগত মানের দিকে বেশি মনোযোগী। ঋণ পোর্টফোলিওর ভারসাম্য রক্ষা, খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনা এবং মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে এমন একটি উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য, যেখানে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে। তাঁর কথায়, স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতাই হবে ঢাকা ব্যাংকের আগামীর মূল চালিকাশক্তি, যেখানে কোনো অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি থাকবে না বরং থাকবে টেকসই আর্থিক ভিত্তি।