লামায় পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে মুসলিম এইড ও কারিতাসের ত্রাণ বিতরণ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের ফলে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০টি পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মুসলিম এইড ইউ.কে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিস এবং কারিতাস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার অসহায় মানুষদের কষ্ট লাঘব করতেই মূলত এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার লামা পৌরসভার মধুঝিরিস্থ কারিতাস বাংলাদেশের পিএইপি-৩ প্রকল্প কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সহায়তার তালিকায় ছিল চাল, লবণ, বিশুদ্ধ পানি, বিস্কুট ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, মুসলিম এইড ইউ.কে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের ফাইন্যান্স ম্যানেজার রেমন্ড গমেজ, প্রকল্প সমন্বয়ক এস. এম. মনোয়ার হোসেন এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোত্তাসিম বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কারিতাস বাংলাদেশের পিএইপি-৩ প্রকল্পের লামা উপজেলা মাঠ কর্মকর্তা জেভার্স ত্রিপুরা, লিটন বিশ্বাস ও ইনকিং চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ সহায়তা পেয়ে মফিজা খাতুন, আমির হোসেন, আমেনা বেগম, হ্লাচিংনু মার্মা ও নাছিমা আক্তারসহ একাধিক ভুক্তভোগী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোতে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছিল। এমন দুর্দিনে এই মানবিক সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি ও আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে।
কারিতাস বাংলাদেশের পিএইপি-৩ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জেভার্স ত্রিপুরা বলেন, দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়বদ্ধতা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুঃখ কিছুটা হলেও লাঘব করার লক্ষ্যেই এই জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর এমন উদ্যোগ দুর্যোগকালীন দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে স্থানীয়রা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।