২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন ব্রাজিল সেলেসাওদের নতুন স্বপ্নের পথে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য

ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তি ব্রাজিল মানেই বিশ্বকাপের মঞ্চে এক অন্যরকম উন্মাদনা। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথমবার পা রাখার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র দলটির নাম ব্রাজিল। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে শিরোপা জিতে তারা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে শেষ ২৪ বছর ধরে সোনালী ট্রফিটি অধরা। ২০১৪ সালের ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেই ট্র্যাজিক ৭-১ ব্যবধানের পরাজয় কিংবা ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হার—সব মিলিয়ে বড় কোনো সাফল্য না আসায় আক্ষেপের পাহাড় জমেছে সেলেসাওদের শিবিরে। এবারের আসরে কিছুটা অনুজ্জ্বল তকমা নিয়ে মাঠে নামলেও, কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এই দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা কিংবদন্তি রোনালদো, যার নামের পাশে রয়েছে ১৫ গোল। অন্যদিকে, ক্যাফুর ২০টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখনো অক্ষুণ্ণ। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ডোরিভাল জুনিয়রের অধীনে বাছাইপর্বে পঞ্চম স্থানে নেমে গিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল দলটি। সেই সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব বুঝে নেন ইতালিয়ান ট্যাকটিশিয়ান কার্লো আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদ এবং এসি মিলানের হয়ে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এই কোচের ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের রক্ষণ ও আক্রমণভাগে ভারসাম্য আনবে বলে প্রত্যাশা সমর্থকদের।
দলের প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদে দারুণ ফর্মে থাকলেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এখনো নিজের সেরাটা সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ৪৩ ম্যাচে মাত্র ৮ গোল করা এই উইঙ্গারকে আনচেলত্তি এখন কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলাচ্ছেন, যা নিয়ে কৌশলগত নানা জল্পনা রয়েছে। তবে ভিনিসিয়ুস যখন স্বরূপে ফেরেন, তখন প্রতিপক্ষের যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া তাঁর জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দীর্ঘদিন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে দলে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা সান্তোসের জার্সিতে পুনরায় ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন। ২০০২ সালে রোনালদোর ফিরে আসার গল্পের মতো নেইমারও কি পারবেন ব্রাজিলকে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে ফেরাতে? দলের ইনজুরি সমস্যা এবং সাম্প্রতিক মাঠের বাইরের কিছু বিতর্ক থাকলেও, আনচেলত্তি তাঁর ওপর ভরসা রেখে অভিজ্ঞতার ওপরই জোর দিয়েছেন। রদ্রিগো এবং এস্তেভাওয়ের অনুপস্থিতি বড় আঘাত হলেও, দলে রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও এনদ্রিকের মতো তরুণ তুর্কিরা যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেস এবং অভিজ্ঞ কাসেমিরোর লড়াই দলের ভারসাম্য রক্ষা করবে। রক্ষণভাগের অবিসংবাদিত নেতা মার্কুইনহোস এবং গোলরক্ষক অ্যালিসনের অভিজ্ঞতা যে কারো জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ। গ্রুপ ‘সি’-তে মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং হাইতির বিপক্ষে লড়াইয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেওয়ার অপেক্ষায় ব্রাজিল। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যদি ব্রাজিল নিজেদের সামর্থ্যের পূর্ণ ব্যবহার করতে পারে, তবে শিরোপার দৌড়ে তাদের কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড— গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদেরসন, ওয়েভেরতন। রক্ষণভাগ: অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, লিও পেরেইরা, ব্রেমের, ইবানেজ, ওয়েসলি, মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ডগলাস সান্তোস। মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস, কাসেমিরো, দানিলো সান্তোস, ফাবিনিও, লুকাস পাকেতা। ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, ম্যাথিউস কুনহা, রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লুইজ এনরিকে, নেইমার, রায়ান।