AdvertisementAdvertisement

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে দুর্নীতি হ্রাসের প্রত্যাশা অর্থমন্ত্রীর

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রশাসনিক দুর্নীতি অনেকাংশেই হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ১১ বছর নতুন বেতনকাঠামো প্রবর্তিত না হওয়ায় এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অভাবের তাড়নায় দুর্নীতির প্রবণতা তৈরি হয়, যা নতুন বেতনকাঠামোর মাধ্যমে নিরসনের পথ সুগম হবে।

বাজেটের মূল দর্শন সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ। কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর করতল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিককে বাজেটের অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তাই দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্পগুলো দেশের বেকারত্ব নিরসনে সহায়ক হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগের কৌশলকে একটি ভুল ধারণা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সঠিক অর্থনৈতিক নীতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল বাজারে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি আমাদের অর্থনীতির ওপর পড়ছে। বিগত সময়ের অনিয়ম ও মানি লন্ডারিংয়ের ফলে ব্যাংক খাতে সৃষ্ট মূলধন ঘাটতি তহবিল ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। আমদানি করা পণ্যের বাড়তি দামের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও ব্যবসায়িক ব্যয় কমিয়ে আনার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।

ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সহজে ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি কোম্পানি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগা ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার অন্তরায়। সরকারি দপ্তরের জটিলতা কমিয়ে এবং অপ্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিনিয়ন্ত্রণকরণ প্রক্রিয়ার ওপর কাজ করছে বলে তিনি জানান।

0%
0%
0%
0%