১০০ দিনের কাজের বদলে চালু হলো ভিবিজি রাম জি মিশন, গ্রামীণ শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ল ১২৫ দিনে

ভারতে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১ জুলাই থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ’ বা ‘ভিবি-জি রাম জি’। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে আসা ১০০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের পরিবর্তে এই নতুন আইন ও প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, বরং কাজের পরিধি, অর্থ বরাদ্দ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নজরদারি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার।
ভারতের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দৈনিক মজুরির হার গড়ে ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই বিধানে দৈনিক ৩০০ টাকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তি মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনো শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি এর নিচে নেমে না যায়। এর ফলে মনরেগা প্রকল্পের অধীনে জাতীয় গড় মজুরি ২৯৮.৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৭.৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা দৈনিক ২৮.৬ টাকা বৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত।
ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো যোগ্য গ্রামীণ শ্রমিক যেন কর্মহীন না থাকেন। নতুন এই আইনের আওতায় গ্রামীণ পরিবারগুলো এখন থেকে বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত সবেতন কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা পাবেন, যা আগে ১০০ দিন ছিল। সমৃদ্ধ গ্রাম গঠনের মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এর রূপকল্প বাস্তবায়নে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, অসম, অরুণাচল প্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডে সর্বাধিক প্রায় ২৪.৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ী এলাকা সিকিমের পঞ্চায়েতগুলোতে দৈনিক মজুরি সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রকের ভাষ্যমতে, গ্রামীণ ভারতকে আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে এই আইন কেন্দ্রীয় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এখন পর্যন্ত ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই আইন বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দ সম্পন্ন করেছে এবং ২৪টি রাজ্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ভারত সরকারের দাবি, এই পরিবর্তন গ্রামীণ কর্মসংস্থান কাঠামোতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস