AdvertisementAdvertisement

হরিণাকুন্ডুতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তে জেলা প্রশাসন

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের জটার খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে, যেখানে কোনো শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছিল না। খাল খননের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা জানান, খননকাজ অগোছালো হওয়ায় সেচ সুবিধা পাওয়ার পরিবর্তে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, খননযজ্ঞ চালানোর সময় খালপাড়ের মূল্যবান ফলদ ও বনজ গাছ নির্বিচারে নিধন করা হয়েছে।

প্রকল্পটির সঙ্গে জড়িত পিআইসি রবিউল ইসলাম ও আনিছুর রহমান দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, অর্থ উত্তোলন কিংবা বরাদ্দের কোনো বিষয়ে তারা অবগত নন। খননকাজে শ্রমিকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, টেকনিক্যাল সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিল পরিশোধ করা হলেও শ্রমিক তালিকায় গরমিল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের কার্যক্রম পর্যালোচনার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, খাল খননে কোনো দুর্নীতি হয়নি। প্রকল্পের বাইরে অন্য খাল খননের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়মিত করতে সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, জটার খাল খনন নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%