নরসিংদীর রায়পুরা প্রেসক্লাবে দুর্ধর্ষ চুরি ও ভাঙচুর ৪ মাসে চারবার হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানটি

নরসিংদীর রায়পুরায় অবস্থিত রায়পুরা প্রেসক্লাবে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ব্যাপক ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। সোমবার সকালে সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক প্রেসক্লাবে গিয়ে ক্লাবের তালা ভাঙা এবং ভেতরের লণ্ডভণ্ড অবস্থা দেখতে পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এটি প্রেসক্লাবের চতুর্থ চুরির ঘটনা, যা স্থানীয় সাংবাদিক মহলে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা প্রেসক্লাব থেকে একটি টেলিভিশন, পানির মোটর, চারটি বৈদ্যুতিক পাখা, দুটি কম্পিউটার ও স্পিকারসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্লাবের ভেতরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ রানা ক্ষতিগ্রস্ত প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক জানান, সকালে ক্লাব পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি কক্ষের ভেতর সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং কাঁচের জিনিসপত্র চূর্ণ-বিচূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা খান এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ৪৩ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি বারবার হামলার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এই ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং প্রেসক্লাবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিক মহল দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
