AdvertisementAdvertisement

সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ প্রতিবন্ধী বিধবার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকায় স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নিজের ও সন্তানদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক বিধবা নারী। শনিবার শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানরা তাকে ও তার সন্তানদের ন্যায্য উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রহিমা বেগম জানান, ২০০৫ সালে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক শহরের সুইনগড় এলাকার হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। ২০১৪ সালের মে মাসে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সুরভীপাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছেন। শুরুতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় প্রথম পক্ষের ছেলে মনজুর আলী খাঁন তাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দিলেও ২০২৩ সাল থেকে সেই অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রহিমা বেগমের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে প্রথম পক্ষের সন্তান জুনাব আলী খাঁন ও সাহদৎ আলী খাঁন তার সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে এফিডেভিটের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ওয়ারিশনামা প্রস্তুত করেছেন। গত ৩১ মে তার বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন পৈতৃক সম্পত্তির বিষয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খাঁন ও সাহদৎ আলী খাঁনসহ তাদের স্বজনেরা রাশেদকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী বিধবা নারী আরও জানান, বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলেরা তাকে ও তার সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছেন। তবে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, পৌরসভার নাগরিক সনদ ও টিকাকার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনকে রহিমা বেগমের স্বামী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রহিমা বেগম বলেন, তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং স্বামীর অঢেল সম্পদের প্রতি তার কোনো লোভ নেই, কিন্তু তার এতিম সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার রয়েছে। এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগমকে তার বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি জানান, রহিমা বেগম যদি আসলেই তার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন, তবে বিষয়টি পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রয়েছে।

0%
0%
0%
0%