দিনাজপুরে পুকুর থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ লুট পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নে লিজকৃত পুকুরের প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ রাতের আঁধারে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সরকারি নিয়ম মেনে সাড়ে চার একর আয়তনের অর্পিত সম্পত্তির ওই পুকুরটি তিনি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত নিলামে অংশ নিলেও সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার আগেই নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে জোরপূর্বক তার চাষকৃত মাছ লুট করে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী মৎস্য চাষির ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে তিনি জরুরি ভিত্তিতে থানায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দায়িত্বরত এসআই আশরাফুল ইসলাম সেখানে মাছ ধরার জাল, মাছ পরিবহনের পিকআপ এবং লুটকারীদের উপস্থিত থাকার পরও কাউকে আটক করেননি। উল্টো অভিযোগ রয়েছে যে, পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে মাছভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, যা তার পুকুরের পাহারাদারের নজরে আসে।
পরবর্তী সময়ে প্রতিকার পেতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলামের শরণাপন্ন হলেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা ও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই তিনি এমন বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মাস্টার তার বিরুদ্ধে আনা মাছ লুটপাটের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ হাছান জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর তিনি ভুক্তভোগীকে আইনগত পরামর্শ দিয়েছেন।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শাহ জানিয়েছেন, মাছ লুটপাটের ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
