AdvertisementAdvertisement

অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে প্রতিবন্ধকতা জয় করে সরকারি চাকরিতে গাইবান্ধার আয়েশা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার অদম্য তরুণী আয়েশা আক্তার। জন্মগতভাবে দুই হাত না থাকলেও কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মনোবলকে পুঁজি করে অবশেষে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ কর্মভার গ্রহণ করেছেন।

আয়েশার এই সাফল্যের পেছনে সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসা বিশেষ নির্দেশনা এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার আন্তরিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছোটবেলা থেকেই অভাব ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া আয়েশা প্রতিকূলতাকে কখনো জয় করার পথে বাধা হতে দেননি। বাবার মৃত্যুর পর চরম অনিশ্চয়তা নেমে এলেও হাল ছাড়েননি তিনি। বরং পায়ের আঙুলের সাহায্যেই রান্নাবান্না, কম্পিউটার পরিচালনা, এমনকি ইট ভাঙার মতো কঠিন সব কাজও তিনি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শিক্ষাজীবনেও আয়েশার সংগ্রাম সমানভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। জন্মগতভাবে হাত না থাকায় পায়ের আঙুলে কলম ধরে লিখে তিনি ২০১২ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে অদম্য মেধার স্বাক্ষর রেখে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সংগ্রামী মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর অদম্য লক্ষ্য নিয়েই তিনি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আয়েশার জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় এবং দ্রুত তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে আয়েশা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং হাজারো মানুষের কাছে আশার বাতিঘর হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আয়েশার এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শারীরিক অক্ষমতা যে মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে না, আয়েশা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য থাকলে যে প্রতিকূলতাকে জয় করে শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানান, শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন আয়েশার পাশে ছিল এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছে।

0%
0%
0%
0%