AdvertisementAdvertisement

থাইল্যান্ডে অপহরণ ও নির্যাতনকারী চক্রের পাঁচ ভারতীয় সদস্য গ্রেফতার

থাইল্যান্ডে সস্তায় ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্যাংককের খ্লং তান এলাকার একটি হোটেল থেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাদের আটক করা হয়। ভারতের তিন তরুণকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যেই এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো অবতার সিং, জগজিৎ সিং, রামবালক কুমার, সুখবীর সিং এবং কুলরা সিং। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, মাসখানেক আগে এক চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক ব্যক্তির সাথে তাদের যোগাযোগ হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, দুবাই থেকে কলকাঠি নাড়া ওই মূল চক্রান্তকারী মুক্তিপণ হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। অপরাধীদের প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল যে, এই কাজ শেষে তাদের অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ও থাইল্যান্ড ছাড়ার বিমানের টিকিট দেওয়া হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সাত দিনের একটি সাশ্রয়ী পাটায়া ট্যুর প্যাকেজের প্রলোভন থেকে। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই মোহিত, আশিস ও হিমাংশু নামের ওই তিন তরুণকে অপহরণ করে একটি টাউনহাউসে আটকে রাখা হয়। ২১ জুলাই ভারতীয় দূতাবাসের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর চোনবুরি ইমিগ্রেশন ও পাটায়া সিটি পুলিশ মাঠে নামে। অপহৃতদের পরিবারের কাছে পাঠানো ভিডিও কলে দেখা যায়, তরুণদের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি ৪০ লক্ষ টাকা বা প্রায় ৪১,৮৩১ ডলার দাবি করা হচ্ছে।

সোমবার পাটায়ার সেই টাউনহাউসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন তরুণকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন। বন্দিদশায় তাদের মুখ কস্টেপ দিয়ে আটকানো ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নির্যাতনের সরঞ্জাম ছাড়াও লাল রঙের স্প্রে পেইন্ট উদ্ধার করে, যা ব্যবহার করে শরীরে কৃত্রিম ক্ষতচিহ্ন তৈরি করা হতো যাতে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়ে দ্রুত টাকা আদায় করা যায়। উদ্ধার পাওয়া তরুণেরা জানিয়েছেন, এর আগেও একই বাড়িতে অন্য এক ভারতীয়কে বন্দি রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই অপরাধী চক্র।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%