ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের বিরোধ ও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের ঘটনায় উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজারের শহীদ হাসান চত্বরে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের দাবিদার চেয়ারম্যান পুষ্টিবিদ মো. আলীম উদ্দিন লস্কর। শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন ও আর্থিক অনিয়মের বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে আলীম উদ্দিন লস্কর অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৪ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখলের প্রক্রিয়া চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটনের নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নতুন একটি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে মূল বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কার্যত দখল করা হয়েছে।

আলীম উদ্দিন লস্করের ভাষ্যমতে, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলায়মান হক জোয়ার্দারের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে সরিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করলে নানা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর দুই দিন পরই ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্ত বহিরাগতদের সহায়তায় শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় একপর্যায়ে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি ‘ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আয়োজকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে পুরো চুয়াডাঙ্গায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আর্থিক অনিয়ম, বিশ্ববিদ্যালয় দখল এবং প্রশাসনিক জালিয়াতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন আলীম উদ্দিন লস্কর। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং প্রকৃত ট্রাস্টি বোর্ডের হাতে পরিচালনার সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজ ও অভিভাবক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%