কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে খাতা ক্রয়ে ৪৫ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ ও নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি করে নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ এবং বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে এই জালিয়াতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

দরপত্র অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষার খাতা ৬৫ জিএসএম ঘনত্বের হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকাভিত্তিক ‘গণলিপি’ তা মানেনি। তারা চুক্তি লঙ্ঘন করে ৫২ থেকে ৫৫ জিএসএম ঘনত্বের নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ করেছে। এই অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছর কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ১৯৬ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৬০৬ জন ছাত্র রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষার জন্য খাতা ক্রয়ের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অথচ সরবরাহকৃত খাতার মান অনুযায়ী তার বাজারমূল্য ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকার বেশি নয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, শিক্ষা বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের কমিশন দিয়ে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। বোর্ডের ক্রয় ও মূল্যায়ন কমিটির দায়িত্বে থাকা সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা প্রকৌশলী শাহীনুর ইসলাম, উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান, সহকারী সচিব আমিনুল ইসলাম এবং সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট বিকাশ চন্দ্র মল্লিকের যোগসাজশ ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান দায় এড়িয়ে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাতা বুঝে নেওয়াই তাদের দায়িত্ব, এরপর খাতাগুলোর গুণগত মান বা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ও প্রকৌশলী শাহীনুর ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন অপচয় ও শিক্ষার মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%