উত্তরাঞ্চলে উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কৃষক সমাবেশ ও জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি অভিযোগ করেছেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন সফর করলেও সরকার দৃশ্যমান কোনো অর্জন বয়ে আনতে পারেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিরোধীদলীয় বেশিরভাগ সংসদ সদস্য এ অঞ্চলের হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এখানকার বড় উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার এবারের বাজেটেও উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জনগণকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদের মতো বীরদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের ভোটাধিকার এবং অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, কৃষকদের ঋণের বোঝা নিয়ে চরম বৈষম্য চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিরা দাপিয়ে বেড়ালেও সামান্য ঋণের দায়ে কৃষকদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তিনি প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ সভাপতির বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে কুড়িগ্রামের জন্য জাতীয় বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে গোপালগঞ্জ পেয়েছে ৫ শতাংশ। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষ নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধ করছে, তাই রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজসহ উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের সমান অধিকার রয়েছে। এটি কোনো দলের অনুগ্রহ নয়, বরং সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকার।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশ শেষে সাইদ উজ্জ্বলকে আহ্বায়ক এবং কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিমকে সদস্য সচিব করে জাতীয় কৃষক শক্তির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে এনসিপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

0%
0%
0%
0%