ভাঙ্গুড়ায় খাদ্যগুদামে কৃষকের বদলে ব্যবসায়ীদের ধান বিক্রির অভিযোগ স্থানীয়দের

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় হাট-বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তা সরকারি দরে বিক্রির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এতে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকরাই কেবল খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পাবেন। উপজেলার ৪ হাজার ৭ শত জন নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা সত্ত্বেও সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে কর্মকর্তাদের নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা প্রতি মণ ধান ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনে সরকারিভাবে ১৪৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ৩ হাজার টাকা মুনাফা লুটছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, যার একটি বড় অংশ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিলপাশার গ্রামের কৃষক আবু সাইদ জানান, তিনি ধান নিয়ে গুদামে গেলে কর্মকর্তারা ধান সংগ্রহ শেষ হয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দেন। একই অভিযোগ বড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসানের। তিনি জানান, ধান বিক্রির সুযোগ না দিয়ে গুদাম থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে খাদ্যগুদামের উপপরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সরকারি নিয়ম মেনেই কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হয়েছে এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।