রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা কাটেনি

রাঙামাটির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় ও শোকাবহ দিন ১৩ই জুন। ২০১৭ সালের এই দিনে অবিরাম বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। মর্মান্তিক সেই ট্র্যাজেডির নয় বছর পেরিয়ে গেলেও রাঙামাটির পাহাড়বাসীর স্মৃতিতে আজও জ্বলজ্বল করছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াল চিত্র। দুর্যোগের সেই স্মৃতি আজও মেঘের গর্জন বা বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের বাসিন্দাদের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দেয়।

বিজ্ঞাপন

সেদিন পাহাড়ের বিশাল চূড়া ধসে মাটিচাপা পড়েছিল শহরের ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন, উলুছড়া, রূপনগর ও শিমুলতলীসহ কাপ্তাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভুক্তভোগীদের স্মৃতিতে সেই দিনের অন্ধকারাচ্ছন্ন সকাল এখনো এক দুঃস্বপ্ন। দীর্ঘ সময় পার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসনে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, বরং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের দেয়া ১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। রাঙামাটি রোভার স্কাউটের কমিশনার নুরুল আবচার জানান, পাহাড় কাটা বন্ধ কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দুর্বলতা স্পষ্ট। পরিবেশ রক্ষা ও ক্ষতিকারক জুম চাষ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পাহাড়ের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত নতুন কোনো ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি এই পরিস্থিতির বাস্তবতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া জড়িত। তবে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস পাওয়া মাত্রই বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীদের সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবুও পাহাড়ের পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টেকসই পুনর্বাসন ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

0%
0%
0%
0%