কুমিল্লায় চর দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী নিহত, মামলা দায়ের ও ৫ জন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চর দখল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধের ঘটনায় কুহিনূর আক্তার (৩৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে তিতাসের নতুন ভাটেরাচর এবং মেঘনার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মেঘনার বিনোদপুর গ্রামের কাবিল মিয়ার স্ত্রী কুহিনূর আক্তার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার দুপুরে, যখন তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের দুই বাসিন্দা মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ব্যক্তিগত কাজে গেলে স্থানীয় বিনোদপুর গ্রামের লোকজন তাদের আটকে রেখে মারধর করে। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তিতাসের ভাটেরাচর গ্রামের লোকজন তাদের উদ্ধার করতে যান। এ নিয়ে বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।

নিহতের স্বামী কাবিল মিয়া বাদী হয়ে ২৯ জুলাই রাতে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিতাসের ভাটেরাচর গ্রামের ৬১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মজিদপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সুরুজ মিয়াসহ আরও চারজন রয়েছেন।

এদিকে পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভাটেরাচর গ্রাম এখন কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুহিনূরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন নদী পার হয়ে ভাটেরাচরে এসে প্রায় ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্থানীয় নারীরা জানান, সোমবার সকালে লুটপাটের পর তারা আর গ্রামে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%