কুমিল্লা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয় তদন্তের দাবি

কুমিল্লা সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়ে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র প্রায় এক বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও, রহস্যজনক কারণে অধিক মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের ধান কাটার জন্য ঠাকুরগাঁও থেকে আসা শ্রমিকরা দীর্ঘ এক মাস ধরে কাজ করছেন। স্থানীয় বাজারের তুলনায় অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অথচ সরকারি হারভেস্টার মেশিনটি সচল করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সূত্র বলছে, শ্রমিকদের জন্য চড়া মজুরির পাশাপাশি বাড়তি বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। এখানে উৎপাদিত ধানের একটি বিশাল অংশ গবেষণার কাজে ব্যবহৃত না করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, বীজ হিসেবে অনুপযুক্ত ধান মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেওয়া হয়। এছাড়া মাঠ থেকে সংগৃহীত চাল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খামার ব্যবস্থাপক জহিরুল হক শামীম দাবি করেন, প্রায় ৬৭ একর জমিতে চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত হারভেস্টার মেশিনটি দীর্ঘ সময় ধরে অকেজো। তিনি অজুহাত হিসেবে জমির কাদার কথা উল্লেখ করলেও, আধুনিক যন্ত্র থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীলতা এবং সরকারি সম্পদের এমন অবহেলাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও, মাঠ পর্যায়ের এমন লুটপাট সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত এই গবেষণাকেন্দ্রে কেন যথাযথ নজরদারি নেই, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উঠেছে বড় ধরনের প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
