ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হোটেলে আটকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো ১৪৬ অভিবাসী

ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে চলছে তীব্র অনুসন্ধান। গত ২৪ জুন মিয়ামি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিতাড়িত ১৪৬ জন ভেনেজুয়েলান নাগরিককে বহনকারী একটি বিমান অবতরণের কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটিতে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, ওই ফ্লাইটে ১৯ জন নারী ও সাত শিশুসহ ১৪৬ জন আরোহী ছিলেন, যাদের একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের ‘আইসিই ফ্লাইট মনিটর’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ১২টি নির্বাসন ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ঘটনার দিন হোটেলটির বারান্দায় থাকা লিসবেথ পোর্টিলো নামের এক বেঁচে যাওয়া নারী জানান, প্রথম কম্পন অনুভূত হওয়ার পরপরই হোটেলটির একাংশ ধসে পড়ে এবং তার পাশের নারীরা আর্তনাদ করতে করতে নিচে পড়ে যান। তিনি আরও বিশজনের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে বেরিয়ে এসে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ন্যাশনাল গার্ডের একটি ভবনে পৌঁছান এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের ভাষ্যমতে, দেশজুড়ে চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জেভেনি রদ্রিগেজ নামের অপর এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন এবং তার সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর সহায়তায় কোনো রকমে জীবন রক্ষা করেছেন। লা গুয়াইরার রাস্তাগুলোতে তখন দিগ্বিদিক ছুটছে মানুষ, যাদের অনেকেরই পরনে পোশাক ছিল না এবং খালি পায়ে অসহায় অবস্থায় সাহায্যের প্রার্থনা করছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণ-নির্বাসন নীতির আওতায় গত মে মাসেই বিশ্বের ৩৮টি দেশে ২৮৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। তবে গত সপ্তাহের সেই বিশেষ ফ্লাইটের আরোহীদের একটি বড় অংশ এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, এপি কর্তৃক মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা