দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

দেশের ছয় জেলায় বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নীলফামারী, পঞ্চগড়, বগুড়া ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জের মাহমুদা আক্তার, সাদিয়া খাতুন ও মেসবাউল এবং নাচোলের সুমিয়ারা বেগম। এর মধ্যে শিবগঞ্জের তিনজন আম বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারের প্রত্যেকের অনুকূলে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও মুক্তাগাছা উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গফরগাঁওয়ের পাঁচভাগ গ্রামে ধানের কাজ করার সময় সিয়াম নামের এক যুবক এবং মুক্তাগাছায় মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকির সময় বজ্রপাতে কলেজশিক্ষক এএসএম খালেকুল আজাদ নিহত হন। স্থানীয় পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলায় নিজ বাড়ির পাশে বজ্রপাতে আলম ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেরিনা বেগম নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই দিনে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে ফেরার পথে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন নামের এক ট্রাক্টর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়ার আদমদীঘিতে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। এ ঘটনায় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বাড়ির ছাদে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নাহিদ গুরুতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রতিটি ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।