AdvertisementAdvertisement

সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিচ্ছে বিজিবি ও স্থানীয়রা

ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের আমলে নতজানু অবস্থানে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখন কঠোর পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে সীমান্তে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড রুখে দিচ্ছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিজিবি এখন সীমান্ত সুরক্ষায় আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ফলে লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ধারাবাহিক ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাপ্পারবাড়ি সীমান্তে শনিবার দুপুরে বিএসএফের একটি দল জোরপূর্বক এক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। কালিরহাট বিওপি সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ১২টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে জিরো লাইনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল কঠোর বাধা দেয়। বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা ৩০ ঘণ্টা উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার ভোর থেকে ভুক্তভোগীরা ভারতীয় শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিজিবি। মানবিক বিবেচনায় বিজিবি সদস্যরা আটকে পড়া ওই মানুষগুলোর মাঝে শুকনো খাবার সরবরাহ করেছেন।

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। টানা ১৯ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর বিএসএফ তাদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে নেয়। একইভাবে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ৮ থেকে ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা চালানো হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে বিএসএফ পিছু হটে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের জোরপূর্বক পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া আইনগতভাবে অবৈধ। সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষও পাহারায় অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে বেনাপোল সীমান্তে গ্রামবাসীরা রাতেও টর্চ হাতে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছেন। সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বিএসএফের এই ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই। বিজিবি বলছে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের সহযোগিতা তাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্পর্কিত- আমার-দেশ
0%
0%
0%
0%