তীব্র তাপপ্রবাহে স্থবির জনজীবন বাড়ছে গরমজনিত রোগের প্রকোপ

নীলফামারীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় টানা পঞ্চম দিনের মতো মৃদু তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নীলফামারীতে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে স্থবিরতা নেমে এসেছে দৈনন্দিন কার্যক্রমে। প্রচণ্ড এই গরমে শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, যার ফলে দুপুরের পর থেকে রাস্তাঘাট ও হাটবাজারগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমান এই মৃদু তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৪ জুনের পর থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। এদিকে, তীব্র গরমে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও গরমজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও পানিশূন্যতাসহ হিট এক্সহসশনের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগী সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
তীব্র দাবদাহে নাটোরেও জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। লালপুর অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বেড়েছে বহুগুণ। মাঠে কর্মরত কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ বৈদ্যুতিক পাখার নিচেও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না।
তীব্র গরমের এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হিটস্ট্রোক এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রখর রোদে সাবধানে চলাফেরা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুপুরের কড়া রোদে বাইরে না রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গরমের তীব্রতার মধ্যেও মৌসুমী ফল হিসেবে স্বস্তির খোজে মানুষ ভিড় করছেন কাঁচা তালের শাঁসের দোকানে। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও সড়কের মোড়ে বসেছে তালের শাঁসের অস্থায়ী দোকান। প্রচণ্ড তাপে শীতল প্রশান্তি মেটাতে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই মৌসুমি ফল কিনছেন। বালিজুড়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তালের শাঁস বিক্রির এই হিড়িক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।