Advertisement

সিলেট-জকিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা জনদুর্ভোগ চরমে

সিলেট-গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা ও যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা।

দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কারের অভাবে সড়কটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত মালবাহী ভারী যানবাহন, বিশেষ করে সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে আসা পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু অসমতল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে গোলাপগঞ্জ সদর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ বর্তমানে চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সাময়িক মেরামতের জন্য ইটের সোলিং করা হলেও তা স্থায়ী কোনো সুফল বয়ে আনছে না। বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে এসব সোলিং দ্রুত ভেঙে যাওয়ায় গর্তগুলো আবারও আগের বিপজ্জনক অবস্থায় ফিরে আসছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনের চালকরা সড়কের একপাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, যা বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই জরাজীর্ণ সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত ১৩ জুলাই ফুলবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আখদ্দছ আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে ৩০ জানুয়ারি গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমির সামনে মোটরসাইকেল আরোহী শানাজ আহমদ ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ জানান, বর্তমানে বিভাগীয়ভাবে রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সিলেট-শেওলা প্রকল্পের আওতাভুক্ত থাকায় প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিকরা অবিলম্বে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%