লোহাগাড়ায় অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে জনমনে ক্ষোভ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের চাকফিরানী মৌজায় নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৮টি ঘরের অধিকাংশ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গৃহহীন ও অসহায় মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও, উপকারভোগী বাছাইয়ে অনিয়মের কারণে প্রকৃত ভূমিহীনরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সেখানে বসবাস না করে অন্যত্র চলে গেছেন। আবার অনেক সুবিধাভোগী বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলো অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রকল্প এলাকা ত্যাগ করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পরিদর্শনের খবর পেলে লোক দেখানো ভিড় থাকলেও, পরিদর্শন শেষে ঘরগুলো আবারও তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
প্রকল্পে বসবাসরত বাসিন্দারা জানান, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অনেক ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে এবং দেয়ালগুলো হেলে পড়ছে। বসবাসের অনুপযোগী এসব ঘরের কারণে প্রকৃত অভাবী মানুষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন জানান, এলাকায় অনেক ভূমিহীন পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করলেও সরকারি উদ্যোগে নির্মিত ঘরগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ঘর প্রকৃত উপকারভোগীরা ব্যবহার করছেন কি না, তা সরেজমিনে পুনরায় যাচাই করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ঘরগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে নতুন করে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ বিন আখন্দ জানিয়েছেন, যারা বরাদ্দকৃত বাড়িতে থাকছেন না বা ঘর ভাড়া দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত গৃহহীনদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
