পাকিস্তানে পালিত হচ্ছে জাতীয় সংখ্যালঘু দিবস

পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় সংখ্যালঘু দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও ১১ আগস্ট দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে, যার সূচনা হয়েছিল ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির আমলে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তানর প্রতিষ্ঠাতা কায়েদ-এ-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা, যেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
এই বিশেষ দিনে পাকিস্তানর রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এক বাণীতে দেশে ন্যায়বিচার, সমতা ও সহনশীলতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি পাকিস্তান রেখে যেতে হবে যা শান্তি, স্থায়িত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। রাষ্ট্রপতি দেশের সব নাগরিক, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা খাতসহ রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে তাদের অসামান্য অবদান ও দেশপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাকিস্তানর জাতীয় কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তারা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রকৃত সৌন্দর্য। তিনি স্মরণ করেন যে, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট গণপরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে কায়েদ-এ-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন, রাষ্ট্রে ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন থাকবে না এবং নাগরিকরা তাদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কায়েদ-এ-আজমের সেই ঐতিহাসিক বাণী এখনো পাকিস্তানর শাসনব্যবস্থা ও সামাজিক নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করছে। সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ পাকিস্তান গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
