বামপন্থীদের সমালোচনার মুখে তসলিমা নাসরিন এবং কলকাতায় ফেরা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া

নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বরাবরই তাঁর সাহসী লেখনী এবং স্পষ্টবাদী অবস্থানের জন্য আলোচনায় থাকেন। দীর্ঘ ১৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকারের হাত ধরে সম্প্রতি কলকাতায় পা রেখেছেন তিনি। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন যেন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী শিবিরের। আর তাতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তসলিমা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন সতীর্থ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মানসিকতা নিয়ে।
মেঘমল্লার বসু থেকে শুরু করে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো ব্যক্তিত্ব, যাঁরা একসময় তসলিমার সাহসের প্রশংসা করতেন, আজ তাঁরাই কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন—সেই রহস্যের সন্ধানে নেমেছেন লেখিকা। তসলিমার মতে, তাঁর ফিরে আসার বিষয়টি বামপন্থীদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করেছে। একসময়ের ধর্মনিরপেক্ষ এই লেখককে যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাসিত করেছিল, আজ অন্য একটি দল তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে—এই রাজনৈতিক সমীকরণ মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। নিজের আদর্শ থেকে এক ইঞ্চিও সরেননি দাবি করে তসলিমা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তাঁর কোনো ভাষণে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ খুঁজে দেখানোর জন্য।
দীর্ঘ ১৯ বছর বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় থাকলেও লেখিকাকে ফেরাতে কেন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তসলিমার ভাষায়, বামপন্থীরা চেয়েছিল তাঁকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়ে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে দিতে। তাদের এই রাজনীতিকে কটাক্ষ করে লেখিকা বলেন, তাঁরা নিজেরা উদ্যোগী হননি, আবার অন্য কেউ ফিরিয়ে আনলে সেটিও সহ্য করতে পারছেন না। তসলিমা স্পষ্ট করেছেন, সেক্যুলার মিশনসহ কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তিনি ফিরেছেন এবং বিজেপি সরকার তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়েছে। ডানপন্থীদের সমর্থন পেয়েই তিনি ডানপন্থী হয়ে গেছেন—এই অভিযোগকে তিনি যুক্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তসলিমার আক্ষেপ, অশিক্ষিত জিহাদি এবং তথাকথিত শিক্ষিত বামপন্থীদের একাংশ আজ তাঁর বিরুদ্ধে একই ভাষা ও ঘৃণা ব্যবহার করছে। এই দুই মেরুর মানুষের মধ্যে নৈতিক পার্থক্যের জায়গাটি কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তসলিমার সাফ বার্তা, পশ্চিমবঙ্গ বা কলকাতা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত জমিদারি নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের। আর সেই মানুষের ভালোবাসাতেই তিনি বারবার ফিরে আসবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
