এফসিআরএ সংশোধনী বিল ও রাম মন্দির ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের রণকৌশলে মতবিরোধ

ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল ২০২৬ নিয়ে ভারতের সংসদে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিরোধী শিবিরে নতুন করে রণকৌশল নির্ধারণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি নিয়ে সরকারি অবস্থান এবং রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত কথিত অনিয়মের বিষয়টিকে ঘিরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য ও সমন্বয়ের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে উত্থাপিত এই বিলটি সোমবার সংসদে পুনরায় আলোচনার জন্য পেশ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটিতে বিধান রাখা হয়েছে যে, কোনো সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হলে, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও মূলধন পরিচালনার দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর ন্যস্ত হবে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারবে অথবা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর কিংবা এজেন্সির কাছে তা হস্তান্তর করার ক্ষমতা রাখবে। বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে তা দেশের এনজিও এবং নাগরিক সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিপিএম এবং কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলোর একটি বড় অংশ বিলটির ওপর সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সিপিএমের এক প্রবীণ নেতার মতে, সরকার যাতে কোনো প্রকার প্রতিরোধ ছাড়াই বিলটি পাস করিয়ে নিতে না পারে, সেজন্য সংসদে নিজেদের আপত্তি ও মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই এখন প্রধান লক্ষ্য। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ভাষ্যমতে, নাগরিক সমাজের ওপর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী ও ক্ষতিকর প্রভাব রুখতে এই বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, জোটের অন্যতম শরিক সমাজবাদী পার্টি রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদান কারচুপির অভিযোগের ওপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। ফৈজাবাদের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ দাবি তুলেছেন, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের সাথে জড়িত এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে সংসদে সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। তারা এই বিতর্ক এড়িয়ে না গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার ওপরই অনড়।
বাম শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজবাদী পার্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, আগামী সোমবার বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা ফের বৈঠকে বসবেন। সেখানে এফসিআরএ বিল নিয়ে আলোচনা এবং রাম মন্দির ইস্যুকে একইসাথে সামনে রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রণকৌশল চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
