AdvertisementAdvertisement

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ সরকার বদলের হুঁশিয়ারি দিলেন অভিজিৎ দীপক

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের তীব্র আন্দোলনের পর নতুন হুঙ্কার ছাড়ল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সাফ জানিয়েছেন, ভারত সরকারের বর্তমান নীতি ও ছাত্রদের প্রতি বৈরী মনোভাবের পরিবর্তন না হলে আগামী দিনে শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, বরং সরকার পরিবর্তনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে না ছাত্রসমাজ। আন্দোলনের সাফল্যকে পুঁজি করে বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

নিজের রাজ্য মহারাষ্ট্রের সম্ভাজীনগরের বাসভবনে ফিরে অভিজিৎ দীপক অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের হেফাজতে নেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অভিজিৎ দীপক বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ, আর তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের এই দমন-পীড়ন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আজ যারা কেবল মন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করেছে, সরকার তাদের অবজ্ঞা করলে ভবিষ্যতে তাদেরই সরকার পতনের শক্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাত্র আন্দোলনের বড় জয় হলেও, এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না বলে মত প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ শুধু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষানীতির ত্রুটির বিরুদ্ধে। সরকারের উচিত নয় ছাত্রদের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা, কারণ তাদের মনের আগুন এখনো নেভেনি। অদূর ভবিষ্যতে সরকার যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান না করে, তবে ফের রাজপথে নামতে বাধ্য হবে ছাত্রসমাজ।

এদিকে, সিজেপির এই নতুন অসন্তোষের কেন্দ্রে রয়েছে দিল্লি সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণা। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে অপরাধমূলক অতীত বা আন্দোলনের সময় হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই শর্তের তীব্র বিরোধিতা করে সিজেপি দাবি তুলেছে যে, আন্দোলনের নামে দায়ের করা সমস্ত মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, ‘অপরাধমূলক অতীত’ বা ‘হিংসার অভিযোগ’-এর মতো অস্পষ্ট তকমা ব্যবহার করে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিশানা করতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, দিল্লি সরকার জানিয়েছে যে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ মেনেই তারা এই অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শীর্ষ আদালতের নির্দেশনার আলোকেই যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই, তাদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে না। তবে এই আইনি ব্যাখ্যা মানতে নারাজ সিজেপি। ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যে এখনই প্রশমিত হচ্ছে না, বরং অদূর ভবিষ্যতে তা আরও ঘনীভূত হতে পারে, অভিজিৎ দীপকের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%