ঔপনিবেশিক নাম মুছে আপন পরিচয়ে ফিরল নাউরো

ঔপনিবেশিক শাসনের জাঁতাকলে শত বছরেরও বেশি সময় আগে হারিয়ে যাওয়া নিজস্ব পরিচয় পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু। দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক নামের পরিবর্তে দেশটি এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিপাবলিক অব নাউয়েরো’ বা নাউয়েরো প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিতি পাবে। গত মে মাসে দেশটির পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার পর এখন তা চূড়ান্ত রূপ পেল।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আডেয়াং বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে জানান, এই নাম পরিবর্তনের জন্য নতুন করে গণভোটের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি সুস্পষ্ট করেন যে, ‘নাউয়েরো’ কোনো নতুন নাম নয়, বরং এটি দীর্ঘকাল ধরে তাদের জাতীয় প্রতীক এবং জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে ছিল। সংবিধানের আলোকে এই নাম ব্যবহারের আইনি বৈধতা থাকায় সরকার গণভোটের পথ থেকে সরে এসে সরাসরি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে দেশটির সংক্ষিপ্ত নাম হবে ‘নাউয়েরো’ এবং এর নাগরিকদের ‘দেই-নাউয়েরো’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে সরকারিভাবে এই নতুন নাম সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্ব মানচিত্রে ভ্যাটিকান সিটি ও মোনাকোর পর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র এই নাউরুর বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে স্থানীয় উচ্চারণ কঠিন মনে হওয়ায় এক সময় আদি নাম ‘নাউয়েরো’ বিকৃত হয়ে ‘নাউরু’তে রূপান্তরিত হয়। প্রেসিডেন্ট আডেয়াং জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে নিজস্ব শিকড় পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
ইউনেস্কোর তথ্যমতে, স্থানীয় ভাষা ‘দোরেরিন নাউয়েরো’ বর্তমানে গুরুতরভাবে বিপন্ন ভাষার তালিকায় রয়েছে। যদিও এটি সাধারণ মানুষের মুখে এখনো প্রচলিত, তবুও শিক্ষা কারিকুলামে এর অনুপস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে দেশটির সরকার গত বছর একটি বিল পাস করেছে, যার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে এই ভাষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
