দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট জনজীবন বিপর্যস্ত শিল্প উৎপাদনে বড় ধাক্কা

রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা—সর্বত্র গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা। গত ৩১ জুলাই শুক্রবার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, বাড্ডা, উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসাবাড়িতে দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। রাতের গভীর কিংবা ভোরের আগে ছাড়া গ্যাস না পাওয়ায় দৈনন্দিন রান্নাবান্না কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভয়াবহ এই ভোগান্তির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রান্নার বিকল্প হিসেবে অনেকে বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা তাদের মাসিক ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষেরা সময়মতো নাশতা ও দুপুরের খাবার তৈরি করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
গ্যাসের এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতেও। পর্যাপ্ত চাপের অভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যে স্টেশনগুলো সচল রয়েছে, সেখানেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চালকদের দৈনিক আয় সংকুচিত হয়ে আসছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থাও পড়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে। গ্যাসের স্বল্পচাপে কলকারখানার বয়লার ও যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে সচল রাখা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্পপণ্যের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে এবং নির্ধারিত সময়ে আন্তর্জাতিক রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এ কারণেই দেশজুড়ে গ্যাসের এই তীব্র স্বল্পচাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।
