ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফুঁসছে এএফসি তীব্র আপত্তির মুখে ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিশ্বকাপ আয়োজনের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আগে মহাদেশীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করায় ফিফার প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বাহরাইনের এই ফুটবল সংগঠক বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ফিফার এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত ফুটবলের বিদ্যমান কাঠামোর ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ফিফা জানায়, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ফুটবল ইভেন্ট পরিচালনার জন্য তারা ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই ঘোষণাটি এএফসিসহ আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত। ৪৭টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শেখ সালমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবটি প্রকাশের আগে ফিফা কোনো পর্যায়েই তাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। এমনকি এই প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও আইনি প্রভাব নিয়ে কোনো বিস্তারিত বিশ্লেষণও তাদের কাছে পাঠানো হয়নি।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক এএফসি ফিফার ছয়টি কনফেডারেশনের অন্যতম একটি শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন। শেখ সালমানের মতে, মহাদেশীয় ফুটবল সংহতি, সহযোগিতা এবং স্বচ্ছতার যে দর্শনের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে, ফিফার এই উদ্যোগ সেই ভিত্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সব কনফেডারেশনের সমর্থন ছাড়া ফিফার এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সফল হওয়া অসম্ভব।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্য দেশগুলো এই প্রস্তাবে রাজি হলে প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার করে অনুদান দেওয়া হবে। তবে এত অল্প সময়ে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের চাপ প্রয়োগের বিষয়টিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এএফসি সভাপতি। তিনি এশিয়ার সদস্য দেশগুলোকে কোনো তাড়াহুড়ো না করে এএফসি ও ফিফার মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শেখ সালমান জোর দিয়ে বলেছেন, ফুটবলের স্বার্থ রক্ষা এবং খেলাধুলার টেকসই উন্নয়নের জন্য বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। তাই যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে এই প্রস্তাব পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফিফার এই বিতর্কিত উদ্যোগ ফুটবল বিশ্বে এখন বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
