গ্রিন কার্ডধারীদের সীমান্ত পারাপারে সন্দেহের ভিত্তিতে প্যারোলের বৈধতা দিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ছয় বনাম তিন ভোটের ব্যবধানে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে আদালত জানিয়েছে, কোনো গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি বিদেশ থেকে ফেরার সময় তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেই সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তারা তাকে ইমিগ্রেশন প্যারোলের আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন। আইনগত মর্যাদা সম্পন্ন অভিবাসীদের অধিকারের ক্ষেত্রে এই রায়কে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মোক চই লাউ নামক এক ব্যক্তি, যিনি ২০১২ সালে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় সীমান্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন। নকল পোশাক বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তৎকালীন সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে ইমিগ্রেশন প্যারোলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও ওই অভিযোগের ভিত্তিতে লাউ তখনো কোনো আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। লাউ দাবি করেছিলেন, কোনো ধরনের আইনি প্রমাণ ছাড়া এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে সীমান্ত কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছেন।
আদালতের রায়ে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সীমান্ত কর্মকর্তাদের জন্য কোনো ব্যক্তির অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট বলে আদালত মনে করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই রায় দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা ও বহিষ্কারের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।
তবে এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন। তার মতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের এমন ‘অভিবাসন অনিশ্চয়তার’ মধ্যে ফেলে দেওয়া মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আদালত সরকারকে কার্যত একটি অবারিত ক্ষমতা প্রদান করল, যা ভবিষ্যতে বৈধ অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা