সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর সরকারি বাহিনীর হামলার অভিযোগ উত্তপ্ত মোগাদিশু

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রাক্কালে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খাইরের ওপর সরকারি বাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার শহরের কেন্দ্রস্থলে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মুদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার পাঁয়তারা করছেন—এমন অভিযোগে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই সরকারি বাহিনী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন বৃহস্পতিবারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই এই নগ্ন হামলা চালানো হয়। খাইরের মতে, এই সহিংসতার পূর্ণ দায়ভার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মুদকে নিতে হবে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোগাদিসুর হাওল ওয়াদাগ এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১৫ মিনিট ধরে চলা ভয়াবহ গোলাগুলিতে রকেট-চালিত গ্রেনেড বা আরপিজি ব্যবহার করা হয়েছে, যার শব্দ পুরো এলাকায় শোনা গেছে। সরকারি বাহিনীর সাথে বিরোধী দলের সশস্ত্র সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
উল্লেখ্য, ১৫ মে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আরও ১ বছর মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে সোমালিয়ার রাজনীতিতে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নতুন সংবিধানের দোহাই দিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো। আঞ্চলিক নেতারাও এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বৃহস্পতিবার রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট শরিফ শেখ আহমেদ খাইরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কোনো বৈধ ম্যান্ডেট ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা আকড়ে রেখে রক্তক্ষয় ঘটাচ্ছেন। তবে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল-শাবাবের উপস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ গোত্রীয় বিভক্তির কারণে দেশটিতে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা