শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শনিবার শত শত তরুণ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামক একটি ব্যাঙ্গাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনের ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যঙ্গ করে এই সংগঠনের নামকরণ করা হয়েছে। মূলত ভারতের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং শিক্ষাখাতের বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করেই এই তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতে তরুণ প্রজন্মের সমালোচকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ হিসেবে অভিহিত করেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তবে এই বিতর্কিত মন্তব্যই মূলত একটি নতুন আন্দোলনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে এই অপমানজনক শব্দটিকে হাতিয়ার করেই সিজেপি গঠনের উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের ব্যবধানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে, যার বর্তমান অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২২ লাখের বেশি।

শনিবারের বিক্ষোভ মিছিলে অনেক অংশগ্রহণকারীকে তেলাপোকার মুখোশ পরে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের স্লোগান ছিল—‘তেলাপোকারা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পালাচ্ছে’। এই আন্দোলনের অন্যতম মূল দাবি ছিল মে মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার অনিয়ম ও সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা এবং বই, যা তাদের ভাষ্যমতে শিক্ষার অধিকার ও সমসুযোগের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে জন্তর মন্তর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছিল দিল্লি পুলিশ।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উদ্ভূত তরুণদের সরকারবিরোধী আন্দোলনের যে ধারা লক্ষ্য করা গেছে, সিজেপির উত্থানকেও একই প্রেক্ষাপটে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশই তরুণ, কিন্তু সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রথাগত রাজনীতির প্রতি অনীহা তাদের এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছে। যদিও বিজেপি সমর্থকরা এই আন্দোলনকে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাময়িক উত্তেজনা হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছেন, তবে তরুণদের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%