AdvertisementAdvertisement

নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিক্ষোভে বলপ্রয়োগে নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ, দাবি সিআরপিএফ-এর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে

নিট বা এনইইটি (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুলাই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফ একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সমস্ত নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি মেনেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ অবলম্বন হিসেবে নিয়ম মেনে পাম্প অ্যাকশন গান বা পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সিআরপিএফ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরএএফের ভূমিকার বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। প্রথমে মাইকিংয়ের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বারবার সতর্ক করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সবশেষে অন্য সব উপায় ব্যর্থ হওয়ার পরই পেলেট গান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে পেলেটের আঘাতে অন্তত ৩ থেকে ৫ জন আন্দোলনকারী আহত হন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের হামলায় ৪৭ জন আরএএফ জওয়ান আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। বাহিনীর দাবি, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছোড়ার পাশাপাশি লোহার রেলিং ও রড দিয়ে হামলা চালালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

ভারতের সিআরপিএফের মহাপরিচালক জি. পি. সিং জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আরএএফের পদক্ষেপ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও বাহিনীর অবস্থান সরাসরি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সামনে পেশ করা হবে। সিআরপিএফের দাবি, ওইদিন দিল্লি পুলিশের লিখিত অনুমতির ভিত্তিতেই আরএএফ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিল। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের লিখিত নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পেলেট গান ব্যবহারের আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে সিআরপিএফের ভাষ্য, বেআইনি জমায়েত নিয়ন্ত্রণে পাম্প অ্যাকশন গান একটি স্বীকৃত ও প্রাণঘাতী নয় এমন উপায় হিসেবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের একটি পুরনো রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, সহিংস জনতা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বলপ্রয়োগ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এসএলপি বা বিশেষ অনুমতি আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেলেট গান ব্যবহারের আইনগত বৈধতা বহাল রয়েছে। ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সিআরপিএফ তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এটুকু নিশ্চিত করেছে যে, আরএএফের সমস্ত পদক্ষেপ আইন ও আদালতের নির্দেশ মেনেই নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%