থোরা-র অধিনায়কত্ব নিয়ে কেলি: ‘এটা মোটেও ভাবিনি’

বৃষ্টি বিঘ্নিত শ্বাসরুদ্ধকর শেষ টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করলো নিউজিল্যান্ড। সিরিজ শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি তার এই আকস্মিক নেতৃত্বভার গ্রহণ এবং সাফল্যের অভিজ্ঞতা দারুণ উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
পায়ের আঙুলে চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক টম ল্যাথামের অনুপস্থিতিতে নিক কেলিকে এই গুরুদায়িত্ব নিতে হয়েছিল। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার (২ মে) সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে কিউইদের নেতৃত্ব দিয়ে সিরিজ ড্র করায় তিনি আত্মবিশ্বাসী।
সিরিজ শেষের প্রতিক্রিয়ায় কেলি বলেন, “আমি সত্যিই এটি উপভোগ করেছি। আমার মনে হয়, আমি যখন এখানে আসার জন্য বিমানে উঠি, তখন অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র ভাবিনি।”
ল্যাথামের চোটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “টমের জন্য এটি অবশ্যই হতাশাজনক। তবে দুটি টি-টোয়েন্টিতে আমার দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল বিশাল সম্মানের। হয়তো এমন সুযোগ আর কখনও পাবো না। তাই আমি শুধু প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছি।”
এই সিরিজে নিউজিল্যান্ড তাদের ১৮ জন প্রথম সারির খেলোয়াড়কে ছাড়াই এসেছিল, কারণ তারা আইপিএল এবং পিএসএল-এ ব্যস্ত ছিলেন। কেলি বিশ্বাস করেন, এমন পরিস্থিতিতে দলের ভারসাম্য ধরে রাখাটা ছিল বিশাল এক অর্জন, যা তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে।
কেলির ভাষ্যমতে, “বিশেষ করে বছরের এই সময়ে যখন দুটি বড় টুর্নামেন্ট চলে, তখন খেলোয়াড়দের লিগে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হয়, যা চমৎকার। এটি আমাদের দলের গভীরতা বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের আনা-নেওয়াটা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে তরুণ বা কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ দেওয়াটা দারুণ।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, এমন সফরে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগানোই মূল বিষয়। এই সুযোগগুলো হয়তো খুব কম আসে, কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করে যেতে হয়, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন সুযোগ আসে, তখন সেটা লুফে নিতে হয়, কারণ এমন সুযোগ খুব অল্পই আসে।”
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জশ ক্লার্কসন ও বেভন জ্যাকবসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কেলি তাদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদেই নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করতে পেরেছে মাথা উঁচু করে।
বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে বোলিংয়ে জশ ক্লার্কসন অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন, মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে টাইগারদের ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে দেন। কেলি ক্লার্কসনের ডেথ বোলিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা শেষ ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে বেশ কথা বলেছিলাম, বিশেষ করে ডেথ বোলিংয়ে। জশ সেখানে ব্যতিক্রমী ছিল। তার পরিকল্পনা খুবই স্পষ্ট ছিল এবং সে তা চমৎকারভাবে কার্যকর করেছে।”
জবাব দিতে নেমে বেভন জ্যাকবস ৩১ বলে অপরাজিত ৬২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গে জুটি বেঁধে জ্যাকবস দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন। জ্যাকবসের প্রশংসা করে কেলি বলেন, “বেভ (জ্যাকবস) খুব পরিষ্কার বল স্ট্রাইকার। আমরা তাকে নেটে খুব কঠোর অনুশীলন করতে দেখি। সে বল অনেক দূরে মারে। তার সেট হওয়া এবং শেষে পাওয়ার হিটিং দেখতে ভালো লেগেছে। জয় পাওয়াটা দারুণ ছিল, এবং জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফটকে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে দেখে ভালো লেগেছে।”
এই পারফরম্যান্স দলের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে জানিয়ে কেলি বলেন, “আমার মনে হয়, এটি দলের পুরোনো খেলোয়াড়দের উপর কিছুটা চাপ তৈরি করবে। তারা কিছু কারণে দলে আছে। তবে এটি দলের গভীরতাও বাড়ায়। এমন সময় আসবে যখন সেই খেলোয়াড়রা চোট বা অন্য কোনো কারণে আবারও অনুপস্থিত থাকবে, এবং তখন এই ধরনের সফরে যারা খেলে তারা আত্মবিশ্বাসী হবে যে তারা আগেও এটি করেছে।”