AdvertisementAdvertisement

মিশিগানে জয়ী আব্দুল আল সায়েদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ডিজিটাল বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ

মিশিগানের সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পরপরই মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আব্দুল এল-সায়েদকে ঘিরে এক সুপরিকল্পিত ডিজিটাল অপপ্রচারের ঝড় উঠেছে। আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এল-সায়েদের এই বিজয়কে ইসরায়েলপন্থী লবিস্ট গোষ্ঠীগুলো নিজেদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছে। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তাকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী ও আদর্শিক আক্রমণের এক ঘৃণ্য জাল বোনা হয়েছে।

মূলত নির্বাচনের রাতে এল-সায়েদের দেওয়া ভাষণে ব্যবহৃত ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটিকে খণ্ডিত আকারে প্রচার করে এই অপপ্রচার শুরু হয়। আরবির এই সাধারণ শব্দটি, যা মূলত প্রত্যাশা বা আশার প্রতীক, সেটিকে অপব্যাখ্যা করে এল-সায়েদকে আমেরিকার জন্য এক বিশাল ধর্মীয় ও আদর্শিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো। বেনি জনসন ও লরা লুমারের মতো ডানপন্থী প্রভাবশালীরা এই বিকৃত প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে এল-সায়েদকে ‘সমাজতান্ত্রিক মুসলিম প্রার্থী’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আল-জাজিরার গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচারণার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ১,৯৬৬টি অ্যাকাউন্ট থেকে অন্তত ২,৫০০টি সংযোগের মাধ্যমে এই বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হ্যামট্রামক শহরকে ‘অধিকৃত নগরী’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অভিবাসন ও মসজিদ নির্মাণকে এক ধরনের ‘ডেমোগ্রাফিক আগ্রাসন’ বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজও এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

এসব অপপ্রচারের রেশ ধরে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সায়েদকে ‘ইহুদি ও ইসরায়েল বিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের উদ্দেশ্য ছিল মূলত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা। তবে এল-সায়েদ এসব বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের বিপরীতে ইহুদি আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের ওপর জোর দিয়ে নিজস্ব অবস্থানে অবিচল রয়েছেন। তিনি সব নাগরিকের সমান অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার এজেন্ডা নিয়ে নিজের প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতারা এল-সায়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা এল-সায়েদের এই লড়াইকে কর্পোরেট প্রভাব ও ধনকুবেরদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী মাসগুলোতেও ‘মামা’ আন্দোলনের পক্ষ থেকে এল-সায়েদকে ‘সন্ত্রাসী’ কিংবা ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%