হাওয়াইয়ে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয়ী এড কেস: মধ্যপন্থি ও প্রগতিশীলদের দ্বন্দ্বের নতুন মাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট এবং উদারপন্থী নতুন ধারার নেতাদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের বিষয়টি আবারও সামনে এল হাওয়াইয়ের প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিনিধি এড কেসের জয়ের মধ্য দিয়ে। শনিবার গভীর রাতে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৪৩ বছর বয়সী প্রগতিশীল প্রতিদ্বন্দ্বী স্টেট সিনেটর জ্যারেট কিওহোকালোলেকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন ৭৩ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। এই জয়ের ফলে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাড্রিয়েল ল্যামের মুখোমুখি হবেন এড কেস।
ভোটের হিসাবে দেখা যায়, এড কেস ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কিওহোকালোলে পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল থেকে হাওয়াইয়ের এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন কেস, এর আগে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইনসভার সদস্য ছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে বর্তমান সময়ে প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে তরুণ ও অধিকতর প্রগতিশীলদের যে মতাদর্শিক লড়াই চলছে, হাওয়াইয়ের এই ফল সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এড কেসের ওপর ক্ষুব্ধ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটরা তার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি’ বা ‘সেভ’ আইনের পক্ষে ভোট দেওয়ায় কেসের বিরুদ্ধে ভোটার অধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে কিওহোকালোলে তার নির্বাচনী প্রচারণায় দাবি করেছিলেন যে, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অনুদান গ্রহণের ফলে বর্তমান প্রতিনিধি তার নিজ এলাকার সাধারণ জনগণের প্রয়োজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
হনুলুলুর এই আসনটিতে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। নিজের পক্ষে জনমত গঠনে কেস যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বরাদ্দ কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাই তাকে পুনর্নির্বাচিত না করা হলে হাওয়াই ফেডারেল তহবিল থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউইয়র্কে সম্প্রতি বামপন্থী প্রার্থীদের জয়জয়কারের বিপরীতে কেসের এই বিজয় ভিন্ন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হাওয়াইয়ের অপর একটি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জিল তোকুদা ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে অনায়াসে জয়লাভ করেছেন। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত জশ গ্রিনও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে সফল হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
