ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কের খাদ্য সমবায়ের

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সমবায় ‘পার্ক স্লোপ ফুড কো-অপ’ ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের পক্ষে রায় দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের টানাপোড়েন ও তপ্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়াল সভায় সমবায়টির ১৭ হাজার সদস্যের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার সদস্য ভোট প্রদানের সুযোগ পান। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ সদস্য ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনের বসতি স্থাপনকারী অঞ্চল থেকে আসা পণ্য বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাহিনি, মরিচ ও পার্সিমনসহ প্রায় এক ডজন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিতর্ককে স্থানীয় অনেক বিশ্লেষক ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা ছায়া যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বয়কটপন্থীদের দাবি, সমবায়টির সামাজিক দায়বদ্ধতার দীর্ঘ ইতিহাসের সাথে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন এবং চিলিতে অগাস্টো পিনোশে সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন পণ্যের ওপর দেওয়া পূর্বের বয়কটের উদাহরণ টেনে এই যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সমবায়টির সদস্য অ্যালিস বার জানান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে না চলা পর্যন্ত এই বয়কট বজায় রাখা তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

এই বিতর্ক কেবল সমবায়টির সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলকেন্দ্রিক বিভাজনের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বয়কটবিরোধী পক্ষ ও এর সমর্থকরা বিষয়টিকে নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এমনকি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দুই নেতা ড্যান গোল্ডম্যান ও ব্র্যাড ল্যান্ডার এই ভোট নিয়ে নিজেদের ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল এই বয়কটকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় একটি নূন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সমবায়টির ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অস্থিরতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বয়কট সমর্থকদের অভিযোগ, তাদের লক্ষ্য করে মৌখিক গালিগালাজ ও হেনস্থা করা হয়েছে, যা সমবায়টির দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ও সহনশীল সংস্কৃতির পরিপন্থী। সমবায়টির মহাব্যবস্থাপক জো স্লাডেক জানিয়েছেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সমবায়টিতে পণ্য বয়কটের জন্য ৭৫ শতাংশ সদস্যের সম্মতির যে নিয়ম ছিল, নতুন ভোটাভুটির মাধ্যমে তা শিথিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীতে সমবায়টির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নেতৃত্ব স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনা ও বিতর্কের পথ খোলা রাখা এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের মূল অগ্রাধিকার।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%