যুক্তরাজ্যে রেকর্ড উষ্ণতা: সপ্তাহান্তে তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস

যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের উষ্ণতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে। কেন্টের ফ্রিটেনডেনে তাপমাত্রা ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ২০১২ সালের পর মে মাসে প্রথমবার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলো। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, আসন্ন ব্যাংক হলিডে উইকেন্ডে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে এবং উষ্ণতম মে মাসের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মেট অফিসের তথ্যমতে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই তীব্র উষ্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার যুক্তরাজ্য তার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম মে মাস দেখতে পাবে। দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং মিডল্যান্ডসে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মেট অফিস জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং উত্তরাঞ্চলে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, মে মাসের বর্তমান তাপমাত্রা রেকর্ডটি হলো ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯২২ সালে উত্তর লন্ডনের ক্যামডেন স্কোয়ারে এবং ১৯৪৪ সালে পশ্চিম সাসেক্সের হর্শাম, কেন্টের টানব্রিজ ওয়েলস ও সেন্ট্রাল লন্ডনের রিজেন্টস পার্কে নথিভুক্ত হয়েছিল।
ব্যাংক হলিডে উইকেন্ডে যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চলে অতিবেগুনি রশ্মির (ইউভি) মাত্রা বেশি থাকবে। রবিবার ম্যানচেস্টারে ইউভি সূচক সাত পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মেট অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ গ্রেগ ডিউহার্স্ট প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন, “পুরো ব্যাংক হলিডে উইকেন্ড জুড়েই উচ্চচাপ বলয় বজায় থাকবে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন প্রচুর উষ্ণ সূর্যালোক থাকবে। তবে স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে কিছু সময় মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং উত্তর-পশ্চিম স্কটল্যান্ডে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।”
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) পূর্ব মিডল্যান্ডস, পশ্চিম মিডল্যান্ডস, পূর্ব ইংল্যান্ড, লন্ডন এবং দক্ষিণ-পূর্বের জন্য অ্যাম্বার হিট হেলথ অ্যালার্ট জারি করেছে। এই সতর্কতাগুলি পূর্বের কম গুরুতর ইয়েলো অ্যালার্টের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
ইউকেএইচএসএ’র ওয়েবসাইট অনুসারে, অ্যাম্বার অ্যালার্টের অর্থ হলো, “বিশেষত ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বা স্বাস্থ্যগত জটিলতাযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে” এবং সকল স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন পরিষেবার উপর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড, ইয়র্কশায়ার ও হাম্বার এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের জন্য ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান
