AdvertisementAdvertisement

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অনিশ্চয়তা: থেমস ওয়াটারের উদ্ধার চুক্তি সংকটে

যুক্তরাজ্যের বৃহৎ জল সরবরাহকারী সংস্থা থেমস ওয়াটারের উদ্ধার চুক্তিটি সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের অনিশ্চয়তার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, মার্কিন বিনিয়োগ সংস্থা এলিয়ট ম্যানেজমেন্টের নেতৃত্বে একদল পাওনাদারদের সাথে সংকটগ্রস্ত এই জল সংস্থার অধিগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা এই মাসেই চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টার্মারের অবস্থান নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা চুক্তিটিকে জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, স্টার্মারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম ইউটিলিটি সংস্থাগুলোকে জনমালিকানায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার সমর্থকরা চান যে তিনি ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করলে প্রথমেই থেমস ওয়াটারকে জনমালিকানায় নিয়ে আসুন। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আশঙ্কাই চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে এবং এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত। তিনি বছরের শেষ নাগাদ কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বীকার করলেও চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, পাওনাদারদের পক্ষ থেকে তথ্য ফাঁস হওয়াটা খুবই হতাশাজনক।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তেমন কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকারি একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার সবসময় জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। থেমস ওয়াটারের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও সরকারের রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

থেমস ওয়াটার বিগত দুই বছর ধরে আর্থিক পতন এড়াতে চেষ্টা করছে। বেসরকারীকরণের পর সংস্থাটির ১৭.৬ বিলিয়ন পাউন্ডের বিপুল ঋণ জমেছে। গত বছর কর্তৃপক্ষ সংস্থাটি বিক্রির চেষ্টা করলেও তাদের পছন্দের বিডার কে.কে.আর. শেষ মুহূর্তে চুক্তি থেকে সরে আসে।

পাওনাদাররা, যারা গত বছর থেমস ওয়াটারকে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড জরুরি তহবিল সরবরাহ করেছিলেন, তারা জলপথে বর্জ্য ফেলার জন্য থেমস ওয়াটারকে জারি করা কোটি কোটি পাউন্ডের জরিমানা মওকুফের দাবি করেছেন। একই সাথে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পরিবেশগত বিনিয়োগ কমানোরও অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

সরকারি সূত্রগুলো অবশ্য সম্প্রতি প্রস্তাবিত চুক্তিটির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, বেসরকারি পাওনাদারদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে সংস্থাটিকে জনমালিকানায় আনতে ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই অঙ্ক নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, সংস্থাটির আর্থিক অবস্থা এবং পাওনাদাররা ইতিমধ্যেই যে পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছেন, তা বিবেচনা করে মন্ত্রীদের আইনত কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে নাও হতে পারে।

যদি বর্তমান চুক্তিটি ভেঙে যায়, তাহলে থেমস ওয়াটার একটি বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীনে আসবে, যা এক ধরনের অস্থায়ী জাতীয়করণ। সেক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে সংস্থাটি বিক্রি করতে পারবে অথবা এটিকে সম্পূর্ণরূপে জনমালিকানায় নিয়ে আসতে পারবে। অ্যান্ডি বার্নহাম, যিনি আগামী মাসে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের আশা করছেন এবং পরবর্তীতে স্টার্মারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন, তিনি ইউটিলিটি সংস্থাগুলোকে জনমালিকানায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার ম্যানচেস্টারের বাসগুলো জনমালিকানায় আনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বার্নহাম বলেন, ‘বাসের ভাড়া ২ পাউন্ডে নেমে এসেছে। আমরা এই নীতিকে শক্তি এবং জল খাতেও প্রয়োগ করতে চাই। আমার মনে হয় আমাদের এটাই করা উচিত।’ বার্নহামের অনেক সমর্থকই থেমস ওয়াটারকে জনমালিকানায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র নিল লসনের পরিচালিত থিঙ্কট্যাঙ্ক কম্পাস, যা সমগ্র জল শিল্পকে জনমালিকানায় আনার জন্য একটি প্রচারণা চালাচ্ছে। কম্পাসের উপ-পরিচালক লেনা সুইডলো বলেন, থেমস ওয়াটারকে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত করতে অনীহা দূরদর্শীতার অভাব এবং বিপজ্জনক। এর ফলে কেবল বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের জন্য আরও ঋণ নিতে হবে।

চলতি মাসের শুরুতে বার্নহামের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ট্রিবিউন গ্রুপের এমপি ইউয়ান ইয়াং একটি প্রবন্ধে সরকারকে থেমস ওয়াটারকে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। ডেফ্রা সূত্রের খবর, অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী না হলেও, দুর্বল কিয়ার স্টার্মার বা অন্য কোনো লেবার নেতা এই চুক্তিকে অনুমোদন দিতে অসুবিধায় পড়বেন।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%