কেন্সিংটন গার্ডেনস ফের উন্মুক্ত: সন্দেহজনক বস্তু নিরাপদ ঘোষণা

লন্ডনের কেনসিংটন গার্ডেনস থেকে সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধারের পর ব্যাপক পুলিশি তৎপরতার শেষে এটি জনসাধারণের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। দুটি জারে গুঁড়ো পদার্থসহ বেশ কিছু বস্তু পাওয়া গেলেও পুলিশ সেগুলোকে “ক্ষতিকর নয়” বলে ঘোষণা করেছে। তবে, ইরান-সমর্থিত একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ইসরায়েলি দূতাবাসকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর এই ঘটনার সঙ্গে তার সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত চালাচ্ছে কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশিং লন্ডন।

বিজ্ঞাপন

পিএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামক ওই গোষ্ঠী ভিডিওটি প্রকাশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওতে ইসরায়েলি দূতাবাসের একটি ছবির ওপর লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়েছে এবং হ্যাজম্যাট স্যুট পরিহিত ব্যক্তিরা ড্রোন উড়াচ্ছে বলে দৃশ্যমান হয়। এই ভিডিও প্রকাশের পরই কেনসিংটন গার্ডেনসে সন্দেহজনক সামগ্রীর উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ শনিবার জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলো পরীক্ষা করে কোনো ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশিং লন্ডনের কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান উল্লেখ করেন, এই ঘটনা এবং পরবর্তী পুলিশি অভিযান স্থানীয় বাসিন্দা ও বৃহত্তর জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের সহানুভূতির জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কমান্ডার ফ্লানাগান আরও বলেন, “যদিও প্রাপ্ত সামগ্রীগুলো ক্ষতিকর নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে, আমরা অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওটির সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশিং লন্ডনের কর্মকর্তারা এই কাজটি করছেন এবং তাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইসরায়েলি দূতাবাস সরাসরি হামলার শিকার হয়নি, পুলিশ দূতাবাস এবং তাদের নিরাপত্তা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে স্থানটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

কেনসিংটন গার্ডেনসের ব্যান্ডস্ট্যান্ডের কাছে এই ঘটনা ঘটলে মেট্রোপলিটন পুলিশের ডুবুরি এবং আবদ্ধ স্থান অনুসন্ধান দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ব্যান্ডস্ট্যান্ডের ঠিক উত্তরে এবং কেনসিংটন প্যালেসের পূর্বে অবস্থিত শোভাময় রাউন্ড পন্ড হ্রদেও তল্লাশি চালানো হয়। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের কুকুর স্কোয়াডও এই তল্লাশি অভিযানে অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’কে ইরান-সমর্থিত বলে সন্দেহ করা হয় এবং উত্তর লন্ডনে অন্যান্য অগ্নিসংযোগ হামলার দায় স্বীকার করারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%