AdvertisementAdvertisement

সোয়াতে আত্মঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার কাবাল পুলিশ স্টেশনের সামনে গত ২ আগস্ট সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। দুনিয়া নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঘন্য ও কাপুরুষোচিত এই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৬ জন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেছে।

নিরাপত্তা পরিষদ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব ধরনের ও সব রূপে সন্ত্রাসবাদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অন্যতম বড় হুমকি। হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী এবং এর পেছনে মদতদাতা ও অর্থায়নকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব অনুযায়ী দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই বিবৃতির ঠিক কয়েক দিন আগেই পাকিস্তান সরকার বিশ্বমঞ্চে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আস্তানা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আফগানিস্তানের সীমান্ত থেকে পাকিস্তান প্রতিনিয়ত গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও তাদের মজিদ ব্রিগেড, ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএস-কে) এবং আল-কায়েদার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের মাটিতে নিরাপদ অবস্থান ব্যবহার করে নিয়মিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে না দেওয়া হয়। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত চতুর্থ যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদবিরোধী আলোচনার পরপরই এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো, যেখানে উভয় দেশ জঙ্গি দমনে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%