AdvertisementAdvertisement

জেরুজালেমের পবিত্রতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের আহ্বান পাকিস্তানের

জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া এবং গাজায় শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে আয়োজিত জেরুজালেম বিষয়ক এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই আহ্বান জানান। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জর্ডান সরকার এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে ইসহাক দার দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন যে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম কিংবা এর ইসলামী ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, এই স্থানগুলোর মর্যাদা বা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও হারাম আল-শরিফ পরিচালনার ক্ষেত্রে জর্ডান সরকারের তত্ত্বাবধান এবং জর্ডানের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জেরুজালেম এনডাউমেন্ট ও আল-আকসা মসজিদ বিষয়ক অধিদপ্তরের একক আইনি কর্তৃত্বকে পাকিস্তান পূর্ণ সমর্থন জানায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

১৪৪ দুনাম বা প্রায় ৩৫ একরের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে মুসলমানদের একান্ত ইবাদতের স্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর মর্যাদা পরিবর্তনের যেকোনো অপপ্রয়াসকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন বসতি স্থাপনের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ইসহাক দারের মতে, পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান নিপীড়ন আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

গাজার নাজুক মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি উদ্যোগের ফলে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিললেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখনো কাটেনি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা শান্তি পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর প্রশ্ন তোলে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বর্তমানে তাদের আবাসভূমির মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকায় অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং জনসংখ্যার ৫৯ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%