একুশ বছর পর পর্দায় ফিরছে পূর্ণিমার সুভা

রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল অধ্যায় যেন নতুন করে ফিরে এল দর্শকের আঙিনায়। কিংবদন্তি নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি ‘সুভা’ দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও পর্দায় ফিরছে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়। বিশ্বকবির অমর সৃষ্টিকে উপজীব্য করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছিলেন চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। দুই দশকের বেশি সময় পার করে আজও এই সিনেমাটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম এক মাইলফলক হয়ে টিকে আছে।
স্মৃতির আয়নায় ফিরে তাকালে পূর্ণিমা আজও রোমাঞ্চিত হন সেই অভিজ্ঞতায়। রাবেয়া খাতুনের গল্পে ‘মেঘের পরে মেঘ’ দিয়ে সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ‘শাস্তি’ পেরিয়ে পূর্ণতা পায় ‘সুভা’য়। কেবল বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ করে দিয়েছিল এই চলচ্চিত্র। পূর্ণিমা স্মরণ করেন, ‘সুভা’ কেবল তাঁর জন্যই নয়, বরং শাকিব খানের ক্যারিয়ারেও ছিল প্রথম সাহিত্যনির্ভর কাজ। বোবা ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক তরুণীর জটিল আবেগ ফুটিয়ে তোলা তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। পুবাইলের তীব্র দাবদাহে ভাদ্র মাসের অসহ্য গরমে শুটিংয়ের সেই ক্লান্তি আর কষ্টের স্মৃতি আজও স্পষ্ট তাঁর মানসপটে। শাকিব খানও সেই সময়ে বাণিজ্যিক ঘরানার নাচে-গানে অভ্যস্ত থাকা সত্ত্বেও এই চরিত্রটির জন্য নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছিলেন, যা দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর পূর্ণিমাকে আবারও বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ভক্তরা। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে পূর্ণিমা বরাবরই আপসহীন। তিনি জানান, চিত্রনাট্য ও পরিচালকের ভাবনা যদি তাঁকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগাতে না পারে, তবে কাজ করে তৃপ্তি মেলে না। উপমহাদেশের অন্যান্য সিনেমার নায়িকাদের মতো নিজেকেও বর্তমান সময়ের উপযোগী কোনো শক্তিশালী চরিত্রে দেখতে চান তিনি। তাঁর মতে, আমাদের দেশের পরিচালকদের গল্প বলার ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা প্রয়োজন। সেন্সরশিপের ভয় আর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাস্তবধর্মী ও সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণ করতে পারলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাত।
রূপালি পর্দায় চিরচেনা রোমান্টিক নায়িকা কিংবা সুন্দরী প্রতিচ্ছবি থেকে বেরিয়ে আসার প্রবল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন এই তারকা। তিনি জানালেন, গৎবাঁধা চরিত্রের বাইরে এবার নিজেকে একটি নেতিবাচক বা ভিলেন চরিত্রে দেখতে চান তিনি। এমন কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্র, যা দেখে দর্শকের মনে তীব্র ঘৃণার জন্ম হবে; যা তাঁর অভিনয় জীবনের জন্য একটি নতুন পরীক্ষা। গ্ল্যামার আর রোমান্টিকতার মোড়ক ভেঙে খলনায়িকার চরিত্রে পূর্ণিমাকে দেখার সেই বিশেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় এখন দর্শকমহল।
