পাঞ্জাবে গণশৌচাগারের বেহাল দশা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ নেই বললেই চলে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সরকারি শৌচাগারের ভয়াবহ সংকট এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে লাহোর হাইকোর্টে। বুধবার স্থানীয় সরকার সচিবের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুরো প্রদেশে ১ হাজার ৪২০টি সরকারি শৌচাগার থাকলেও তার মধ্যে হিজড়া সম্প্রদায়ের ব্যবহারের উপযোগী শৌচাগার রয়েছে মাত্র পাঁচটি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত শৌচাগারের সংখ্যা মাত্র ১০টি, যা জনবহুল এই প্রদেশে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার মারাত্মক ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, পাঞ্জাবে থাকা মোট ১ হাজার ৪২০টি শৌচাগারের মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার ২৯৩টি সচল রয়েছে এবং ১২৭টি শৌচাগার অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। লিঙ্গভেদে এসব শৌচাগারের বিন্যাসেও বিশাল বৈষম্য স্পষ্ট। বর্তমানে ৬৭২টি শৌচাগার পুরুষদের জন্য এবং ৫৬৮টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
বিচারপতি রাহিল কামরান এই মামলার শুনানি গ্রহণ করেন। জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম প্যানেলের আইনজীবী আজহার সিদ্দিকি আদালতে রিট পিটিশনটি দায়ের করেছিলেন। শুনানিকালে আইনজীবী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি শৌচাগারের এই অপ্রতুলতা সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শারীরিকভাবে অক্ষম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনজীবী আজহার সিদ্দিকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান। প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনার পর আদালত আবেদনকারী আইনজীবীকে পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাঞ্জাবের জনস্বাস্থ্য খাতের এই নাজুক পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কী রূপ নেয়, তা এখন আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ