গিলগিট-বাল্টিস্তান ইস্যুতে পারস্পরিক শ্রদ্ধার অভাব নিয়ে পিএমএল-এন ও পিপিপি দূরত্ব বাড়ছে

গিলগিট-বালতিস্তানে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপির সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে দলটিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের বা পিএমএল-এনের জ্যেষ্ঠ নেতা খাজা সাদ রফিক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পারস্পরিক রাজনৈতিক সম্পর্কে সম্মান একপাক্ষিক হতে পারে না এবং পিপিপির পক্ষ থেকে পিএমএল-এনের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
পিএমএল-এনের জ্যেষ্ঠ এই নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, গিলগিট-বালতিস্তান নির্বাচনের পরপরই তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানর প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও পিপিপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা পিপিপিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার গঠনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পিএমএল-এনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা সমালোচনার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলে তিনি মনে করেন।
খাজা সাদ রফিক জানান, গিলগিট-বালতিস্তান নির্বাচনে পিপিপি প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ১০টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে পিএমএল-এন ২২ শতাংশ ভোট পেয়ে ৬টি আসন নিশ্চিত করেছে, পাশাপাশি দলটির সমর্থিত দুই জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও জয়লাভ করেছেন। এই ফলাফলের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দরকষাকষি ও অশুভ তৎপরতা থেকে গিলগিট-বালতিস্তানকে রক্ষা করাই ছিল পিএমএল-এনের মূল লক্ষ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনের সার্বিক দায়ভার নির্বাচন কমিশনের। এছাড়া একটি আসনে পিএমএল-এনের পরাজয়ের বিষয়টি নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। খাজা সাদ রফিক স্মরণ করিয়ে দেন যে, করাচিতে স্থানীয় সরকার গঠন ও এমকিউএমের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার মতো ঘটনার ইতিহাস থাকা কোনো দলের পক্ষ থেকে পিএমএল-এনের সমালোচনা করা শোভনীয় নয়।
পরিশেষে পিএমএল-এনের এই নেতা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তারা পিপিপির নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অপরিহার্য এবং পিপিপি নেতৃত্বকে অহেতুক দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ