নাসিকের কারখানায় নতুন ১২টি সুখোই যুদ্ধবিমান তৈরি করবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড

ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা এইচএএল। নাসিকের নিজস্ব কারখানায় নতুন করে ১২টি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে প্রথম বিমানটি ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে অবশিষ্ট বিমানগুলোর সরবরাহ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে ও লাইসেন্সের অধীনে এই কারখানায় ২২২টি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশসীমা রক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্র সরকার ১১ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে এই ১২টি নতুন যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য এইচএএল-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়া বিমানের শূন্যস্থান পূরণই এই নতুন সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই যুদ্ধবিমানগুলোতে ৫০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তির উপাদান ব্যবহার করা হবে, যা ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
নতুন বিমান উৎপাদনের পাশাপাশি বায়ুসেনার বহরে থাকা বর্তমান সুখোই-৩০ এমকেআই বিমানগুলোর আধুনিকীকরণেও জোর দিয়েছে ভারত সরকার। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটে এই মেগা আপগ্রেড প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, যেখানে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রক্রিয়ায় অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিক্স, উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমের পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরনো যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আধুনিকীকরণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক প্রযুক্তি সংযোজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকেত শনাক্ত করে তা অকেজো করা এবং রাডারের সাহায্য ছাড়াই দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে ভারতীয় বায়ুসেনা। সব মিলিয়ে নতুন যুদ্ধবিমান সংযোজন ও বিদ্যমান বহরের আধুনিকীকরণ—এই দ্বিমুখী কৌশল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আগামী দিনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
