ঝাড়খণ্ডে প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে সিআইডি রিপোর্ট, সরকারি ক্লিনচিট নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে সৃষ্ট উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি-সিজিএল) পরীক্ষায় কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে যে দাবি করা হয়েছিল, সিআইডির তদন্তে তার বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর আগেই চড়া মূল্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সিআইডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, হাজারিবাগ, জামশেদপুর, পাটনা, পশ্চিমবঙ্গ এমনকি নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই চক্রের জাল। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও, তৎকালীন সময়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে রাজ্য সরকার গঠন করে নতুন এক বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। এই সিট আগের সিআইডি প্রতিবেদনের সত্যতাকে অস্বীকার করে পরীক্ষাকে কার্যত ‘ক্লিনচিট’ দেয়, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৪ সালের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ল্যান্ডলাইনের মাধ্যমে মৌখিকভাবে উত্তর জানিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন অভিযোগও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জিত কুমার রাঁচির আদালতে প্রমাণসহ মামলা দায়ের করেছেন। সিআইডির তথ্য বলছে, ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে অন্তত ১২০টি প্রশ্নই পরীক্ষার পূর্বমুহূর্তে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, যার প্রমাণ হিসেবে পরীক্ষার দিন সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে জামশেদপুরের বিষ্ণুপুর থেকে তোলা ছবিও সংরক্ষিত রয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নতুন অভিযোগ সামনে আসায় চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে রাঁচির একটি স্টেট গেস্টহাউসে সরকার ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে ষষ্ঠ দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারের প্রতিনিধি ও মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অচল অবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে এখনো সন্দিহান।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
