AdvertisementAdvertisement

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮৪তম বার্ষিকীতে সংগ্রামীদের স্মরণ ও গণতন্ত্র রক্ষাকারীদের সম্মান জানাল রাজ্য সরকার

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৯ আগস্ট এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৪২ সালের এই দিনে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে সূচনা হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’। সেই সংগ্রামের ৮৪তম বার্ষিকীতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে যেসব বীর সন্তান সেদিন দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে স্বাধীন ভারতে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই দেশের হাজার হাজার বীর সন্তান সেদিন প্রাণপণ লড়াই করেছিলেন। তাঁদের অতুলনীয় ত্যাগের ওপরই আজকের স্বাধীন ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সেই সংগ্রামীদের ভূমিকা ও গৌরবগাথা জাতি আজও পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে লালন করে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে ৯ আগস্টের এই দিনটিতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলনরত যেসব ব্যক্তি কারাবরণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে ৩২৫ জনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানি সম্মান’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্মানপ্রাপকদের হাতে স্বীকৃতিপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। জরুরি অবস্থার ৫১ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের স্বীকৃতির এক অনন্য নজির হয়ে থাকছে।

সরকারি এই প্রকল্পের আওতায় সম্মানপ্রাপকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মনোনীত ব্যক্তিরা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা সম্মানমূল্য এবং ১ হাজার টাকা চিকিৎসা-সহায়তা পাবেন। এছাড়াও সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের সুবিধা এবং রাজ্যের গণপরিবহণে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন তাঁরা। সম্মানপ্রাপক কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর স্ত্রী বা স্বামী এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করবেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে শুরু হওয়া প্রায় ২১ মাসব্যাপী জরুরি অবস্থার সেই উত্তাল দিনগুলোতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা ও বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি করার মতো ঘটনাগুলো দেশের ইতিহাসে এক বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। দীর্ঘ সময় পর হলেও, সেই সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের স্বীকৃতি প্রদানকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদা ব্রিটিশ বিরোধী ভারত ছাড়ো আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন—এই দুই ভিন্ন সময়ের ইতিহাস ৯ আগস্টের দিনটিকে এক অনন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%